ডেস্ক রিপোর্ট: অবৈধ তামাক বাণিজ্য নির্মূল, কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল যাচাইকরণ, রিয়েল-টাইম নজরদারি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তামাক খাতে কর ফাঁকি রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আহরণে তামাক কর একটি কার্যকর মাধ্যম। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাট ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তা সুরক্ষা ও দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
এই উদ্যোগের আওতায় তামাক উৎপাদনকারী কারখানায় এআই-সক্ষম ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় গণনাযন্ত্র স্থাপন করে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর রিয়েল-টাইম নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি সিগারেটের কর স্ট্যাম্পে কিউআর বা এআর কোড সংযুক্ত করে উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে।
অবৈধ তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অবৈধ তামাকপণ্যের তথ্য জানাতে পারবেন। এছাড়া চোরাচালান ও অবৈধ উৎপাদন সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
অননুমোদিতভাবে সিগারেট উৎপাদন ঠেকাতে সিগারেট ও বিড়ি তৈরির কাগজ আমদানি ও বিক্রি শুধু অনুমোদিত উৎপাদনকারীদের মধ্যে সীমিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তামাকপণ্যের কাঁচামাল ও নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাসিটেট টো ও ফিল্টার রডের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিন গ্র্যানিউলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের নতুন খুচরা মূল্যও নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের আশা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কঠোর নজরদারি, জনসম্পৃক্ততা এবং কার্যকর রাজস্বনীতির সমন্বয়ে অবৈধ তামাক বাণিজ্য দমন, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
