ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনমিতিক লভ্যাংশের সুফল ধরে রাখতে যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখা অপরিহার্য।
তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী) বিল’ উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা, কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার জট কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রতিটি জেলায় আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপন, ডগ স্কোয়াড সংযোজন এবং হাজতখানা নির্মাণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আইনি কাঠামো আধুনিক করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদক ব্যবসার গডফাদার ও অর্থের জোগানদাতাদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাদকের অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধানও সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদকাসক্তরা অপরাধী নন, তারা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় রোগী। তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন এবং চিকিৎসা ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং জোরদার করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকবিরোধী স্টল পরিদর্শন, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এ বছরের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া।’
