ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, দেশে শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়িত একটি আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মেহেরপুরের মতো সম্ভাবনাময় জেলায় টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাবনা থেকেই সেখানে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, কেন্দ্রটির কার্যক্রম তিনটি মূল লক্ষ্যকে ঘিরে পরিচালিত হবে—স্থানীয় উদ্যোক্তা ও আইটি-ভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে অবকাঠামোগত সহায়তা দিয়ে স্টার্টআপ হিসেবে গড়ে তোলা।শিক্ষার্থী ও তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং আইসিটি দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে শিক্ষা ও বাস্তব দক্ষতার ব্যবধান কমানো।তিনি আরও জানান, কেন্দ্রটিতে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, স্টার্টআপ স্পেস, ইনকিউবেশন সুবিধা এবং ১৫০ আসনের অডিটোরিয়াম থাকবে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণে এসব সুবিধা ব্যবহার করা হবে।
প্রদত্ত প্রশিক্ষণগুলো জাতীয় স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনএসডিএ) কর্তৃক ভেরিফায়েড হবে, ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশ-বিদেশে এর স্বীকৃতি পাবেন।স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড ও আইডিয়া প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় উদ্যোক্তারা এখান থেকেই সরকারি স্টার্টআপ ফান্ড, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা ঢাকাকেন্দ্রিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আইটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মেহেরপুরের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, সারাদেশে আইটি অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এ কেন্দ্র চালু হয়েছে।অনুষ্ঠানের শুরুতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব “স্পেশালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন এবং কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
মনির হায়দারও বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।অনুষ্ঠানে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, প্রকল্প পরিচালক আরিফুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, প্রশিক্ষণার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
