নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএসটিআইয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত এক ও দুই মাস মেয়াদি ব্রেড ঘিরে নতুন করে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অভিযানে ইস্ট বেকার্সের কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় কারখানায় এমন কিছু বস্তা পাওয়া যায়, যেগুলোতে কোনো ধরনের লেবেলিং বা উপাদানের নাম উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, চীন থেকে আমদানি করা অজ্ঞাত উপাদান খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বিএসটিআই কী ধরনের নথি, গবেষণা বা শেলফ লাইফ মূল্যায়নের ভিত্তিতে এক ও দুই মাস মেয়াদি ব্রেডের অনুমোদন দিয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থাটির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিদর্শক কামরুল হাসান ইস্ট বেকার্সের এক মাস মেয়াদি এবং আরবোটিং ফুডের দুই মাস মেয়াদি ব্রেড পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠান। পরীক্ষায় ব্রেডে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ পাওয়া যাওয়ার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত-২ এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
পাশাপাশি আদালত সারাদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার (রিকল) করার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করা একটি ফুড সেফটি কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে এ ধরনের কার্যক্রম অতীতে খুব কমই দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
এদিকে, পুরো ঘটনায় বিএসটিআইয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদ নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, অনুমোদনের প্রক্রিয়া কিংবা অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটি এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
অন্যদিকে, একটি বেসরকারি পরীক্ষাগারে সংশ্লিষ্ট ব্রেডের নমুনা দিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ব্রেডের প্রকৃত নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।
