ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বিজ্ঞাপিত অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান আ. ম. ম. আরিফ বিল্লাহ।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘গুরুতর চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত’ একজন শিক্ষকের নাম আলোচনায় এসেছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ এবং একাডেমিক নীতিমালার পরিপন্থী।
আ. ম. ম. আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বিজ্ঞাপিত অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা গেছে এবং একাডেমিক যোগ্যতার পরিবর্তে প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রভাবের ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে “নব্য জাতীয়তাবাদী” কিছু গোষ্ঠী দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, যা একাডেমিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
সাবেক এই অধ্যাপক দাবি করেন, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের একটি সিএন্ডডি কমিটির সভায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে সভাপতিত্ব পরিবর্তন করা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভাগের চেয়ারম্যানকে সভা থেকে সরিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সভায় এমন একজন ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়েছে যিনি অতীতে চৌর্যবৃত্তি ও একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও একাডেমিক মানকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আ. ম. ম. আরিফ বিল্লাহ তার মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারেক রহমানের এমন মূল্যায়নকে আমি সমর্থন করি।’
তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের উপস্থিতি থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সাবেক এই অধ্যাপক জানান, তিনি পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ও উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে প্রশাসনিক চাপ ও বৈষম্যের কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন।
তিনি আরো বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাকরি পুনর্বহালের জন্য আবেদন করলেও তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। একইসঙ্গে তিনি বিজ্ঞাপিত অধ্যাপক পদে আবেদন করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার আবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
আ. ম. ম. আরিফ বিল্লাহ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত প্রশাসনের কিছু অংশ দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়ন করেছে, যার ফলে একাডেমিক পরিবেশে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এসব প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে যেকোনো অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।
তার মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পোস্টে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ও উর্দু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আ. ম. ম. আরিফ বিল্লাহ উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন শিক্ষাবিদ। তিনি এসওএএস, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্সি ও উর্দু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় (ইরান), গিয়ংসাং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (দক্ষিণ কোরিয়া) এবং জিয়াংসু নরমাল ইউনিভার্সিটি (চীন)-এ তিনি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি শিক্ষকতা করেছেন একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে রয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (অ্যাসেট ল্যাঙ্গুয়েজ), কিংস কলেজ লন্ডন এবং এসওএএস ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়)।
