
ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো ১০০টি পরিবারের পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ৯ আগস্ট (রোববার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে বাঁশখালীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নতুন নির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেবেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাসসকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত ঘরগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন থেকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং নতুন করে ঘর নির্মাণে অক্ষম ১০০টি পরিবারকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১০টি করে পরিবার এই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এসেছে।
নির্মাণাধীন ঘরগুলোকে ভবিষ্যৎ দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে টেকসইভাবে তৈরি করা হচ্ছে। আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করে নির্মিত প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। দুটি কক্ষের পাশাপাশি প্রতিটি ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত শৌচাগারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করতে পারে।
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী বাসসকে বলেন, যেসব পরিবার বন্যায় বসতভিটা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এবং নিজেদের অর্থে নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই, তাদের অগ্রাধিকার দিয়েই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেছেন। তিনি মঞ্চ, প্যান্ডেল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থানসহ সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক বাসসকে বলেন, অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন ঘরগুলোর মান, স্থায়িত্ব এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নতুন ঘরের চাবি গ্রহণের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনে নতুন আশার সূচনা হবে।
সূত্র: বাসস
