ডেস্ক রিপোর্ট: এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের মূল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থপতি হলো যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে ওয়াশিংটন, যা মূলত আমেরিকান অস্ত্র শিল্পের জন্য একটি লাভজনক চক্র তৈরি করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ১৭.৯ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা দিয়েছে। এর সঙ্গে পরোক্ষ সহায়তা যোগ করলে মোট সহায়তার পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এসব অর্থ লকহিড মার্টিন ও বোয়িংয়ের মতো মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় ব্যয় হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেকে গড়ে ৮৫ থেকে ১৬৫ ডলার গাজা যুদ্ধের জন্য পরিশোধ করেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে তীব্র সংকট চলছে। এই অর্থ দিয়ে লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগ বা শিশু স্বাস্থ্য বীমা চালু করা সম্ভব ছিল।
এদিকে, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম (১৮–২৯ বছর বয়সীরা) এবং অনেক ইহুদি নাগরিকও এখন ইসরাইলকে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করছে। এমনকি “জিউস ফর পিস” আন্দোলনও এই সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে AIPAC-এর মতো শক্তিশালী লবির প্রভাব এবং কংগ্রেসে দ্বিদলীয় সমর্থন নীতির পরিবর্তনকে কঠিন করে তুলেছে। ২০১৬ সালে ওবামা প্রশাসনের স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল প্রতিবছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেতে থাকবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক স্বার্থই গাজা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে সবচেয়ে বড় বাধা। যতদিন এই ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’ চলবে, ততদিন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি কেবল মুখের কথা হয়েই থাকবে।
