ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ আবারও রেকর্ড ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এ হিসাবে দেশের প্রতি নাগরিকের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৩৮ ডলার বা ৭৭ হাজার ৪৩৩ টাকা।
মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮৪৩ কোটি ডলার। গত মার্চে এই পরিমাণ ছিল ১০৪.৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১০৩.৭৩ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অবকাঠামো প্রকল্পে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ—এই তিনটি কারণে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের তুলনায় ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপও ক্রমেই বাড়ছে।
বর্তমান সরকারের প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও এআইআইবি থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি খাতও বিদেশি উৎস থেকে ঋণে ঝুঁকেছে। বর্তমানে মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি খাতের অংশ ৮২ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতের অংশ ১৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “দেশের বিদেশি ঋণের বড় অংশ সরকারের। জিডিপির অনুপাতে ঋণ এখনো সহনীয় হলেও সুদ ও কিস্তি পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর চাপ বাড়ছে। কাঠামোগত সংস্কার ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি।”
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪১.১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১০ বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ প্রথমবার ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণের মাইলফলক অতিক্রম করে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রবাসী আয়ও বেড়েছে এবং ডলারের বিনিময় হারেও অনিশ্চয়তা কমেছে।
