ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা করার চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকায় এ পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই নোটিশের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত সময়ের জন্য সামরিক অভিযান পরিচালনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। চিঠিতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন অবরোধ পুনর্বহালের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয় এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সেই অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালানো যায় না।
আইনপ্রণেতাদের একাংশের দাবি, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক তৎপরতা ইতোমধ্যেই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা আইনের সঠিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধের বৈধতা ও কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
