
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন; তাঁদের সংশ্লিষ্টতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। মঙ্গলবার হাইকোর্টে দাখিল করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে তদন্তের এই তথ্য উঠে আসে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল তদন্তকারী দল।
পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টাস্কফোর্স মামলার ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা প্রাথমিক তদন্তে জিয়াউল আহসান এবং একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের যাচাই-বাছাই শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
তদন্তে জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান থেকে পাওয়া ডিজিটাল আলামতের বিষয়টিও উঠে এসেছে। এসব আলামতের মধ্যে জিওলোকেশন, এসএমএস ও কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত অনুলিপি থাকার কথা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলামত চেয়েছে এবং এ বিষয়ে চিঠিও দিয়েছে।২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিনের এই মামলায় নতুন সাক্ষ্য, ডিজিটাল আলামত ও বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য হস্তান্তরের বিষয়গুলো সামনে এলেও তদন্ত শেষ করতে আবারও সময় বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন তথ্য যাচাই করে সেগুলো কীভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যুক্ত হয়, তা মামলার পরবর্তী অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
