নিজস্ব প্রতিবেদক: পাইকগাছার কপিলমুনিতে রাশিদা বেগম (৩৮) নামে বিধবা ভাবীকে যৌননির্যাতন শেষে হত্যার পর গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগে নিহতের ছেলে রিফাত গাজী বাদী হয়ে আপন চাচা মহিদুল গাজী (৩৮) সহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। পেনাল কোডের ধারা-৩০২/৩৪ তে মামলাটি করা হয়েছে জানা যায়।
এর আগে গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিধবার ঝুলন্তা লাশ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মামলার প্রধান আসামী মহিদুল গাজীকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেধে রাখে এবং পরবর্তীতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এদিকে গত রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) নিহত রাশিদা বেগমের লাশের ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের যেকোন সময় উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের মৃত এছেম আলী গাজীর মেঝ ছেলে মৃত এনামুল গাজীর বিধবা স্ত্রী রাশিদা বেগম (৩৮) কে নির্যাতন শেষে হত্যার পর তার লাশ বাড়ির লিচু গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে ধারণা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, দূর্বৃত্তরা তার হত্যার বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তার লাশ ওড়না দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে স্থানীয় কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, এস আই সবুর সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে রাশিদার লাশ উদ্ধারের পর সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত রাশিদার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে স্পট পাওয়া যায়। আটক দেবর মহিদুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেননি। ৩ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ছুটি থাকায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) তার রিমান্ড শুনানী হতে পারে।
নিহতের ছেলে রিফাত গাজী জানায়, সে বরিশালের একটি ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। সেখানে অবস্থানকালে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন রাতে বাড়ীতে ছোট বোন তাসমিরা খাতুন ও তার মা এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোর রাত আনুমানিক ৪ টার দিকে তার ছোট চাচা মফিজুল গাজী ওরফে মহিদুল তার মা রাশিদা’কে ডেকে ঘরের বাইরে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। এরপর আর সে ফেরেনি। এরপর সকালে স্থানীয়রা বাড়ীর লিচু গাছে গলাঁয় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। তার অভিযোগ, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধে পরিকল্পিতভাবে তার মা’কে হত্যা করা হয়েছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের দেবর মহিদুল গাজীসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। ৩ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
