ডেস্ক রিপোর্ট: বিক্রি কিছুটা কমলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে—যা কোম্পানির প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি ডিস্টিলারি প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও নিজস্ব পণ্যে চড়া মুনাফার কারণে এ রেকর্ড অর্জন করেছে।
চিনি ইউনিটে ৬২ কোটি টাকা লোকসান সমন্বয় করার পরও কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট থেকেই মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ।
যদিও ডিস্টিলারি ইউনিটের মোট আয় কিছুটা কমে ৪৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, তবে কেরু টানা তিন বছর ধরে ৪০০ কোটির বেশি রাজস্ব ও ১০০ কোটির বেশি নিট মুনাফা ধরে রেখেছে। বর্তমানে ইউনিটটি প্রায় বারো ধরনের মদ উৎপাদন করছে।
কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, “কোম্পানির ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে এত বেশি মুনাফা আগে কখনো হয়নি। বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ায় কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বেড়েছে। এই চাহিদা মেটাতে উৎপাদনও বাড়াতে হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “খামার, জৈবসার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটেও এবার ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ মুনাফা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।”
তবে চিনি ইউনিট এখনো লোকসান গুনছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ইউনিটের ৬২ কোটি টাকা লোকসানে মোট পুঞ্জীভূত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩১ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতি কাটাতে কেরু ১০২ কোটি টাকার বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার কাজ শেষ হবে ২০২৬ সালের জুনে।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা কেরু বর্তমানে দর্শনায় অবস্থিত তাদের ডিস্টিলারি ইউনিটে স্থানীয় আখের উপজাত থেকে অ্যালকোহল উৎপাদন করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির খামার, জৈবসার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটও রাজস্বে অবদান রাখছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিস্টিলারি ইউনিটের এই ধারাবাহিক সাফল্য কেরুকে নতুন আর্থিক স্থিতিশীলতা দিচ্ছে, তবে চিনি ইউনিট পুনরুজ্জীবিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি থেকেই যাবে।
