
ডেস্ক রিপোর্ট: দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত প্রাচীন সুরা মসজিদ উত্তরবঙ্গের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। রংপুর বিভাগের অন্তর্গত এ মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ কৌশল ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। কেউ একে “সৌর মসজিদ”, কেউ “সুরা মসজিদ”, আবার কেউ “শাহ সুজা মসজিদ” নামে অভিহিত করেন। স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, শত শত বছর আগে জিনেরা এক রাতে এ মসজিদ নির্মাণ করেন। অন্যদিকে ইতিহাসবিদদের ধারণা, এটি সুলতানি আমলে সুলতান হোসেন শাহর (১৫ শতক) শাসনামলে নির্মিত। অনেকের মতে, মুঘল আমলে বাংলার সুবেদার শাহ সুজাও এর নির্মাতা হতে পারেন। তবে স্থাপত্যশৈলীর বিশ্লেষণ থেকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শাহ সুজার ক্ষমতা গ্রহণের অনেক আগেই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। যেহেতু কোনো শিলালিপি নেই, তাই গঠনশৈলীর ওপর ভিত্তি করেই নির্মাণকাল অনুমান করা হয়।

ঘোড়াঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঘোড়াঘাট-হিলি পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত এ মসজিদে গ্রানাইটসহ নানা মূল্যবান পাথরের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মসজিদটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত— নামাজের কক্ষ ও বারান্দা। এর ওপর রয়েছে একটি বড় গম্বুজবিশিষ্ট নামাজ কক্ষ এবং পূর্ব দিকে ছোট তিন গম্বুজবিশিষ্ট বারান্দা। নামাজ কক্ষের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৭.৮৪ মিটার, আর বারান্দার মাপ ৪.৮৪ মিটার বাই ২.১২ মিটার। চুন-সুড়কির মিশ্রণে ছোট আকৃতির ইট দিয়ে নির্মিত দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.৮০ মিটার। চার কোণে রয়েছে কালো পাথরের মিনার, যা এর নান্দনিকতা আরও বৃদ্ধি করেছে।

প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই সুরা মসজিদ উত্তরবঙ্গের সুলতানি আমলের অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে এখনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে যাচ্ছে।
যেভাবে যাবেন: দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১০৬ কিলোমিটার দূরে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৪নং ঘোড়াঘাট ইউনিয়নে অবস্থিত সুরা মসজিদ। উপজেলা পরিষদ এলাকা তথা ওসমানপুর বাজার থেকে ভ্যান বা অটোরিকশা ধরে ঘোড়াঘাট-হিলি সড়ক পেরোলেই রাস্তার ধারে দেখা মিলবে এই প্রাচীন মসজিদ।
