নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কমতি নেই।
গত ১৫ই সেপ্টেম্বর ব্যালট নাম্বার পাওয়ার পর থেকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
নির্বাচনের আমেজে এক অনন্য মাত্রা যুক্ত করেছে প্রার্থীদের এই নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়ে এসেছেন নতুনত্ব। যা শিক্ষার্থীদের এই নির্বাচনী আমেজকে আরো দ্বিগুণ করে তুলেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, “এর আগে আমরা ডাকসু নির্বাচনেও প্রচারণার ক্ষেত্রে নতুনত্ব দেখতে পেয়েছি। এ ধরণের নতুনত্ব আমাদের দেশের নির্বাচনের বিরক্তিকর প্রচারণা থেকে বেরিয়ে আসার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা রাখি।”
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরনের কৌশল সাজাচ্ছেন। সবথেকে বেশি নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে পোস্টারে। কারোর পোস্টার তৈরি করা হয়েছে মার্কিন ডলারের আদলে, তো কারোর পোস্টার দুই টাকার আদলে, কেউ বা পোস্টার তৈরি করেছেন দলিলের আদলে। এছাড়াও অনেকেই প্রজাপতি, বুকমার্ক সহ বিভিন্ন ধরণের শৈল্পিক নকশা ব্যবহার করে পোস্টার তৈরি করেছেন।
একজন প্রার্থীর কাছে পোস্টারের এই নতুত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভোট বলতে দেশের জনগণ বোঝে দুপুর দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত উচ্চস্বরে মাইকিং করে প্রচার করা আর রাস্তায় পোস্টার টাঙানো। জনগন এখন চায় নতুনত্ব। সেই জায়গা থেকে নিজের ইশতেহার একটু অন্যভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা বেছে নেওয়া।”
তবে অনেক প্রার্থীই প্রচারণার ক্ষেত্রে পোস্টারে নতুনত্ব আনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না। তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের অঙ্গীকার পৌঁছে দেওয়াকে।
এ বিষয়ে সিনেট-এ ছাত্রপ্রতিনিধি প্রার্থী হিসেবে ৩২ নম্বর ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এস. এম. তাহমিদ হাসান বলেন, “অনেকেই তাদের প্রচারণার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছেন যা নির্বাচনের আমেজকে বৃদ্ধি করেছে। তবে আমার আমার মতে, প্রচারণার ক্ষেত্রে পোস্টারের বিচিত্রের থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি শিক্ষার্থীদের জন্য এবং তাদের অধিকার রক্ষায় কি করতে পারবো তা তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়া।”
উল্লেখ্য যে, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে সবমিলিয়ে রাকসুর ২৩টি পদের বিপরীতে ২৪৭ জন এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী লড়াই করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদে মোট ১৭টি হলে ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
