আন্তর্জাতিক ডেস্ক|ঢাকাচ্যাট: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা এবং আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে এসব দাবি করেন। বিবৃতিতে তিনি জানান, আনসারুল্লাহর যোদ্ধারা গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে চারটি অভিযান চালিয়েছেন।
হুতিদের দাবি অনুযায়ী, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার ফলে আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এ ছাড়া রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে হুতিদের দেওয়া সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ইয়াহইয়া সারে সৌদি আরবকে সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের গোত্রগুলোকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে। ইয়েমেনে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের ভেতরে অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব সংঘাত বাড়ালে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান হুতি বাহিনীর এই মুখপাত্র।
এর আগে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) বরাতে জানানো হয়, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের একজন সৌদি নাগরিক এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক। আহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি তেলক্ষেত্রে প্রতিহত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন নেপালি এবং অন্যজন ফিলিপিনো নাগরিক। ওই ঘটনায় পাকিস্তানি ও ভারতীয় নাগরিকসহ দুজন আহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে এসব ঘটনার ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে আরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।
