পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা ও সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রস্তাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক রিপোর্ট:বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রস্তাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পুরো ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে বহন করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৪৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৯১৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৯১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
যেসব যানবাহন কেনার প্রস্তাব
প্রকল্পের আওতায় ১১টি আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), ২০টি ওয়াটার ক্যানন, ২০টি ক্রাউড কন্ট্রোল ভেহিকেল, ১৫টি সোয়াট ভ্যান, ১০০টি বিশেষায়িত প্যাট্রোল কার, ১৩টি বিশেষায়িত ভ্যান, ৫৫টি প্রিজন ভ্যান এবং ২০০টি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের প্রশিক্ষিত কুকুর পরিবহনের জন্য ৫০টি ইউটিলিটি টেরেইন ভেহিকেল, দুর্গম এলাকায় অভিযান ও টহলের জন্য ৫০টি অল-টেরেইন ভেহিকেল এবং পাহাড়ি অঞ্চলে চলাচলের জন্য ১০০টি হিল মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ছয়টি মোবাইল সার্ভিল্যান্স গাড়ি কেনার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয়, নদী ও পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত চলাচলের জন্য ১৫টি কুইক রেসপন্স বোট বা স্পিডবোট এবং পানিতে আটকে পড়া ও দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে ১৫টি রেসকিউ বোট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত তালিকায় আরও রয়েছে বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডারদের যাতায়াতের জন্য ১০৫টি কমান্ডারস সাব-আরবান ভেহিকেল, ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০টি ফ্রিজার ভ্যান, ৮০টি স্মল ডিপ্লয়মেন্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল, ঘোড়া পরিবহনের জন্য ১০টি বিশেষায়িত যান এবং অন্যান্য ধরনের আরও ৫৬টি যানবাহন।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য
পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনসেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষায়িত যানবাহনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত পৌঁছানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা সহজ হতে পারে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব যানবাহন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে। কিছু যানবাহন ভ্রাম্যমাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। উন্নত যোগাযোগ ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা থাকলে অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজেও সুবিধা হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
পুরোনো যানবাহন ও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানাল পুলিশ
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) সরদার নুরুল আমিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে পুলিশের জন্য বিশেষায়িত যানবাহন কেনা হয়নি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় এসব যানবাহনের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, আগে কেনা যানবাহনগুলোর বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি। সাধারণত একটি গাড়ির আয়ুষ্কাল ৮ থেকে ১০ বছর। এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অনেক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরদার নুরুল আমিনের ভাষ্য, পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে প্রকল্পটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। এর চূড়ান্ত অনুমোদন, যানবাহন কেনার প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
