ডেস্ক রিপোর্ট: পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়। পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহর কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, মোট আটটি সাবমেরিন বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
কলম্বো বন্দরে পিএনএস তৈমুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে পাকিস্তান এখন আর কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না, আরব সাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী ইসলামাবাদ।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল। সেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, নতুন এই সাবমেরিন মোতায়েন দুই দেশের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।
ভারতের সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী অনেক শক্তিশালী হয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি এখন তাদের হাতে। তবুও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করেন।
