নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ঢাকা-১৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের মতবিনিময় সভায় যুবদল ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা বাধা প্রদান এবং ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ হাসানুল বান্না চপলসহ নেতাকর্মীদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর রূপনগরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রূপনগর থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলটি রূপনগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিরপুর ১১ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রূপনগর থানা আমীর জনাব আবু হানিফ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য ও ঢাকা-১৬ আসন নির্বাচন কমিটির পরিচালক অধ্যক্ষ জনাব নাসির উদ্দিন। এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৬ আসনের সহকারী আসন পরিচালক ও পল্লবী দক্ষিণ থানা সভাপতি আশরাফুল আলম এবং ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাসানুল বান্না চপল।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও কালচারকে পদদলিত করে বিএনপি ও তাদের লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডাবাহিনী জামায়াতের ওপর হামলা চালিয়ে এলাকায় চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। গত ১২ তারিখের নির্বাচনের পর থেকে পরাজিত প্রার্থী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বারবার কাজে বাধা দিচ্ছেন। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া দল আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার রেখে যাওয়া দলটির এই অধঃপতন ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব দেখে তাদের প্রতি করুণা হয়। তিনি অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং প্রশাসনকে সতর্ক করে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনগণের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে রূপনগর থানা আমীর আবু হানিফ বলেন, গতকাল অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বর্বর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও জনগণের ক্ষোভের মুখে টিকতে পারেনি, বিএনপিও পারবে না। জামায়াত যেমন ধৈর্য ধরতে জানে, ঠিক তেমনি অধিকার আদায়ে মাঠের আন্দোলন করতেও জানে।
৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাসানুল বান্না চপল তার বক্তব্যে রূপনগর থানার ওসির কঠোর সমালোচনা করেন। ওসির ভূমিকাকে ‘দালালি ও উস্কানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গতকাল যখন সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার জন্য প্রটেকশন চাওয়া হয়েছিল, তখন পুলিশের গাড়ি নষ্ট থাকার অজুহাত দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু আজ কীভাবে পুলিশের গাড়ি ঠিক হলো? তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাউন্সিলরকে হত্যার ষড়যন্ত্র বা আক্রমণ করে জামায়াতের কোনো কর্মীকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না।
পল্লবী দক্ষিণ থানা সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র ও পরাজিত শক্তি হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। যাদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল, তাদের ওপরই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে রূপনগর থানার ওসির প্রত্যাহার এবং হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে রূপনগরের প্রধান সড়কগুলো কাঁপিয়ে মিরপুর ১১ নম্বরে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
