ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পর অবশেষে রাজধানীতে ধরা পড়েছে আন্তর্জাতিক ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার (আইইএলটিএস) প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই সদস্য—মো. মামুন খান ও তার সহযোগী কেয়া ওরফে পন্না।
২০১৯ সাল থেকে সক্রিয় এই চক্রে যুক্ত ছিল মিরাজ, প্রিন্স, মেহেদী, গিয়াস ও কর্পোরেট কর্মকর্তা তারেক আজিজের মতো নানা স্তরের মানুষ। পাশাপাশি কিছু কোচিং সেন্টার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থী জোগাড় করে কমিশন নিত।
চক্রের কৌশল ছিল ভয়ংকর। পরীক্ষার আগের রাতে প্রার্থীদের হোটেলে রেখে হাতে তুলে দেওয়া হতো আসল প্রশ্নপত্র ও উত্তর। ভোরে রিডিং ও লিসনিং অংশ মুখস্থ করিয়ে নির্দিষ্ট গাড়িতে কেন্দ্রে পাঠানো হতো। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যেত, আর পরবর্তীতে অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হতো দেড় লাখ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী—অনেকে এই অবৈধ সুবিধা নিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—এতদিন ধরে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র আসছিল কোথা থেকে? ভেতরের কর্মী বা আন্তর্জাতিক সংযোগ ছাড়া কি এটি সম্ভব? তবে কি ক্যামব্রিজ, আইডিপি বা ব্রিটিশ কাউন্সিলের কর্মকর্তারাও জড়িত, নাকি এখানেও রয়েছে প্রিন্টিং প্রেস সিন্ডিকেটের ছায়া?
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। যদি আইইএলটিএস প্রশ্নপত্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হয়, তাহলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগকর্তা ও অভিবাসন অফিস আমাদের রেজাল্টকে সন্দেহ করবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভিসা ও ভর্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সৎ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও। এমনকি বাংলাদেশের আইইএলটিএস সেন্টার বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দেশে স্থানীয় নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হলেও এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারহীনতা, জবাবদিহির অভাব ও কর্তৃপক্ষের অস্বীকারের প্রবণতাই এই চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে উঠছে এমন এক সংস্কৃতিতে, যেখানে মেধা নয়, অর্থই সফলতার মাপকাঠি হয়ে উঠছে।
সূত্র : বিডি নিউজ
