ডেস্ক রিপোর্ট: আড়াই বছর পর আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এসএম ওয়েল ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান গত এক সপ্তাহে তিনটি চালানে মোট ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। এর ফলে দেশের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় বাজারে দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

গত কয়েক মাস ধরেই দেশে পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছিল। বিশেষ করে আগস্ট মাসে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৭৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারে দাম ৭০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।
আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পেঁয়াজ প্রতি টন ৩০৫ মার্কিন ডলারে আনা হচ্ছে। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ৪২৯ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ টাকা। মানভেদে এগুলো খুচরা বাজারে ৫৭ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারত হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর প্রায় আড়াই বছর এই আমদানি বন্ধ থাকে। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট প্রথম চালানে ১৫ টন, ২৮ আগস্ট দ্বিতীয় চালানে ৩০ টন এবং ১ সেপ্টেম্বর রাতে তৃতীয় চালানে আরও ১৫ টন পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, “দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আগে আমদানি বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু পরে ভারতও রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। বর্তমানে মজুত থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছিল। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।”
এই চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাগেরহাটের এসএম ওয়েল ট্রেডার্স। ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন রফতানি করেছে। আর খালাসের কাজ সম্পন্ন করেছে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান লিংক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধকেন্দ্রের উপসহকারী শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, এসএম ওয়েল ট্রেডার্স গত সোমবার থেকে রোববার পর্যন্ত মোট ৬০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। মান পরীক্ষার পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, “আড়াই বছর পর ভারত থেকে আবারও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে দুটি বড় চালানসহ মোট ৬০ টন পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ করেছে এবং খালাস শেষে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে আরও বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হলে খুচরা দাম দ্রুত কমে যাবে এবং স্বস্তি ফিরবে। বর্তমানে যেসব ব্যবসায়ী ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন, তারাও ৭০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছেন। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানির পরিমাণ যদি বাড়ে এবং ধারাবাহিকভাবে চালান আসে, তাহলে পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকার নিচেও নামতে পারে।
