
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর জীবন ও অতীত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার বিকেলে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ২৮ বছর বয়সী তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহের বাইরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা শেষে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তাহসিফ। তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে তাঁকে এবং আরেক কর্মকর্তা রিফাত আশরাফীকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের অবসরের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আইএসপিআর অস্বীকার করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার একটি বহুল আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ভিডিওটির ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি নিজেই ভিডিওটি ধারণ করার দাবি অস্বীকার করেছিলেন। পরিচিতজনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এরপর তাঁকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচার শুরু হয়।
তবে এসব বক্তব্য ও ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফল এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হবে।
