
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অভিবাসন সংলাপে তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও যুক্ত করা হবে।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা প্রকাশের আশা করা হচ্ছে এবং ১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যাতায়াত পুরোপুরি বিনা খরচে হবে না। বিমানভাড়া, মেডিকেল পরীক্ষা ও সার্ভিস চার্জসহ সম্ভাব্য ব্যয় ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে।
বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ পরে নির্ধারণ করা হবে।মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ৩৩৮টি লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিয়োগকর্তাদের চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্ভিস সেন্টারে জমা দেওয়া হচ্ছে। দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।শ্রমবাজার চালুর ঘোষণার পাশাপাশি কর্মী নিয়োগের খরচ নিয়ন্ত্রণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের জবাবদিহি এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ থাকায় এবার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। তাই কর্মীদের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশের আগে পরীক্ষা না করানো এবং সরকারি নির্দেশনা যাচাই না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি এখনো প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
