
বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, আলবেনিয়া ও সার্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তরুণেরা শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সমস্যা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন।
তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব তরুণদের উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৫ সালের জরিপে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের ৪০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ দারিদ্র্য বা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। উচ্চ আবাসন ব্যয়, কম বেতনের চাকরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো ও কর্মীসংকট তরুণদের অসন্তোষকে আরও বাড়াচ্ছে।প্রতিবেদনে ফ্রান্সের পেনশন ব্যয় ও শিক্ষায় ব্যয়ের পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তরুণদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান নীতির আর্থিক চাপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়তে পারে। আলবেনিয়ায় দুর্নীতি ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও তুলে ধরেছে।তবে সব দেশের আন্দোলনের গতিপথ এক নয়। সার্বিয়ায় দীর্ঘ আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও আন্দোলনকারীদের সামনে প্রশাসন পরিচালনা ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জেন-জি বিক্ষোভ শুধু অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়া নয়; রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, প্রজন্মগত বৈষম্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। আন্দোলনের স্থায়ী প্রভাব নির্ভর করবে সরকারগুলো এসব দাবির জবাবে বাস্তব সংস্কার আনতে পারে কি না, তার ওপর।
