বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা দাম ১৩৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। বর্তমানে এই সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় বিআইএএম ফাউন্ডেশনে আয়োজিত গণশুনানিতে কমিটির চেয়ারম্যান মো. দিদারুল আলম প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। তবে বিইআরসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হবে না।কমিটির সুপারিশে অটোগ্যাসের দামও প্রতি লিটারে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৩ টাকা ৮৮ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের চার্জ এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের চার্জ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রিতে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা হতে পারে।
কমিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপিজি সংগ্রহের উৎস পরিবর্তন, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিচালন ও অর্থায়ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরবরাহকারীদের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ায় জাহাজ চলাচলের পথ দীর্ঘ হয়েছে বলে জানান দিদারুল আলম।
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আমদানি করা এলপিজির প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয় এবং মোট সরবরাহের প্রায় ৯৯ শতাংশ আসে বেসরকারি অপারেটরদের কাছ থেকে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে রান্নার গ্যাসের ব্যয় বাড়তে পারে; তবে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
