কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। গত ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও বিষয়টি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পুলিশ মিডিয়া সেল গণমাধ্যমকে জানায়।কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে অপরাধে তাদের জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা আসামিরা হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানতে পারলেও এর বিস্তারিত তখনো তাঁর জানা ছিল না। তিনি মামলার দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের প্রত্যাশা করেন।গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। ওই দিন বাসায় না ফেরায় তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ তদন্তের ভিত্তিতে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর আসামিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ।চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এখন নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার দ্রুত বিচার ও রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
