ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর: হরমুজ প্রণালী খুলছে, নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (Islamabad Memorandum of Understanding) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাষ্ট্রপতিরা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন এবং তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এতে অনুমোদন দিয়েছেন।

তার ভাষ্যমতে, উভয় দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি দুই পক্ষের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি বলেন, চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।
শাহবাজ শরিফ এই অগ্রগতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকার সম্ভাব্য বৃহৎ আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের সদস্য জে. ডি. ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ইরানের আলোচক দলের সদস্য মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, আব্বাস আরাঘচি এবং এসকান্দার মোমেনির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের নেতৃত্বের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের প্রচেষ্টাকে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন শাহবাজ শরিফ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা স্মারক মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
