ডেস্ক রিপোর্ট: পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর হাসখালী, চেলাকাটা ও হেতালবুনে খাল থেকে কাঁকড়া আহরণের সময় সাত জেলে অপহরণ হয়েছেন।
অপহরণের পর রোববার (৭ ডিসেম্বর) বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ পরিচয়ে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে সুন্দরবনের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, “বনদস্যু ডন বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে তাদের অপহরণ করেছে বলে জেলেদের কাছ থেকে শুনেছি।
“বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোল দলের সদস্যরা সুন্দরবনের মধ্যে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
অপহৃত জেলেরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), একই এলাকার আনারুল ইসলাম (২২), মজিবুল ইসলাম (৩৫), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), নাজমুল হোসেন (৩৪), আনোয়ার হোসেন (৩২) এবং শামীম হোসেন (৩৬)।
সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ফজের আলী বলেন, “২ ডিসেম্বর কদমতলা বন অফিস থেকে বৈধভাবে পাস নিয়ে ওই সাত জেলে কাঁকড়া শিকার করতে সুন্দরবনে যান। রোববার (৭ ডিসেম্বর) ভোরে মালঞ্চ নদীসংলগ্ন হাঁসখালী, চেলাকাটা ও হেতালবুনে খালে কাঁকড়া শিকার করার সময় বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ পরিচয়ে তিনটি নৌকায় আসা ১০ জন অস্ত্রধারী তাদের ঘিরে ফেলে।
“পরে প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণের দাবি করা হয়। এ সময় তারা একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে সেখানে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
আরেক জেলে সবুজ হোসেন বলেন, অপহৃত জেলেদের বাড়িতে খবর দেওয়ার জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, সমিতি ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে তারা বনে গিয়েছিলেন। এখন মুক্তিপণ দিয়ে সহকর্মীদের ছাড়াতে হবে।
জেলেরা জানান, ২০১৮ সালে ‘ডন বাহিনী’ আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে তারা আবার আগের মত সুন্দরবনে দস্যুতা শুরু করেছে। এ বাহিনী প্রধানের বাড়ি খুলনা হলেও তার দলে শ্যামনগর উপজেলার লোকজন আছেন।
