ডেস্ক রিপোর্ট: হবিগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১৮টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া ৫৩৯টি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে অনুমোদিত ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র আটজন কর্মকর্তা। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দুটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়কের একাধিক পদও খালি।
উপজেলা পর্যায়ের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জেলার নয়টি উপজেলার ৪৮টি অনুমোদিত কর্মকর্তার পদের মধ্যে ৩৬টি শূন্য। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৪৮টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৫ জন কর্মকর্তা। ফলে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক ইউনিয়ন ও অসংখ্য বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল ও লাখাই উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয় তদারকি, পাঠদানের মান মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, শূন্য পদগুলো পূরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়োগ হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে।
