ভোটের আগের দিন টাকা উদ্ধার অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | প্রতীকী ছবি
ডেক্স রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের দিন সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং অর্থের মাধ্যমে জনমত পরিবর্তনের অভিযোগে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে ৭৪ লাখ টাকা সহ আটক করা হয়। নিয়মিত তল্লাশির সময় তার লাগেজে এই অর্থ পাওয়া যায়। যদিও তিনি দাবি করেছেন, এটি তার গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। জামায়াতের পক্ষ থেকেও এ ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ বলে দাবি করা হয়েছে।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযানে একটি মাইক্রোবাসসহ ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা জানান, এই অর্থ একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের খরচের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।
রাজধানীর সূত্রাপুরে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সময় জামায়াত নেতাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই ধরনের অভিযোগে জামালপুরে তিনজনকে আটক করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও নেত্রকোণায় টাকা বিতরণের অভিযোগে একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত নেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভোটের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং নির্বাচনী আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ভোটের আগের দিন দেশজুড়ে এই অভিযান নির্বাচনী পরিবেশে কঠোর বার্তা দিয়েছে—অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা রুখে দিতে প্রশাসন দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
