ডেস্ক রিপোর্ট: ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার বৃহত্তম শহর গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিধ্বস্ত গাড়িটি লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়ে বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ হামলাটি চালানো হল। এতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি আবারও হুমকির মুখে পড়ল।
ড্রোন হামলার প্রতিবেদনটি যাচাই করে দেখছে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খবর রয়টার্সের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন, গাজা সিটির ঘনবসতিপূর্ণ রিমাল মহল্লা এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। হামলায় গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে ও হতাহতদের উদ্ধার করতে বহু সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
নিহত পাঁচজনই গাড়িটির আরোহী, না তাদের মধ্যে পথচারীও আছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আল জাজিরা গাজার স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার (২২ নভেম্বর) ভোর থেকে গাজা সিটিসহ ছিটমহলটিজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধ থামাতে পারলেও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই লাখ লাখ ফিলিস্তিনি গাজায় তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করে। ইসরায়েল শহরাঞ্চলের অবস্থানগুলো থেকে তাদের সেনাদের সরিয়ে নেয় আর অবরুদ্ধ ছিটমহলটিতে ত্রাণ সরবরাহও বাড়তে শুরু করে।
ইসরায়েলি সেনারা গাজা ছেড়ে না গেলেও যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হামাস নিজেদের আবার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। এতে সেখানে কার্যত ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অঞ্চলটির প্রায় বিভাজিত অবস্থা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক হামলায় ৩১৬ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন আর তারা হামাস ও তাদের মিত্র ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল ও হামাস নিয়মিতভাবে একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
