ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মানি। দেশটি তাৎক্ষণিকভাবে ৩৪ মিলিয়ন ডলার (২৯ মিলিয়ন ইউরো) মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে, যা গাজাবাসীর পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সেবায় ব্যয় করা হবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মঙ্গলবার এক্স-এ (X) এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,
“আমরা মানবিক সহায়তার জন্য ২৯ মিলিয়ন ইউরো দিচ্ছি। এটি কেবল শুরু মাত্র।”
তিনি আরও জানান, গাজার দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠনের জন্য মিশরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করবে জার্মানি, যেখানে উন্নয়ন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এ সহায়তা কেবল মানবিক নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গঠিত আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনার প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মের্জ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জার্মানি ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজাবাসীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর জার্মানির এই আর্থিক সহায়তা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে গাজা সংকট নিরসনে প্রথম বড় প্রতিক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে।
মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছে। জার্মানির সহায়তা সেই তহবিলে একটি বড় উৎস যোগ করবে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলোর জীবনে আশার আলো জ্বালাতে পারে।
