
ডেস্ক রিপোর্ট: পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারালেন ফ্রান্সের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু। সোমবার পার্লামেন্টে ভোটের আয়োজন করা হলে সিংহভাগ সদস্য তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ভোট প্রদান করে।
ক্ষমতায় আসার মাত্র ৯ মাসের মাথায় পদচ্যুত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু। সুতরাং এর মাধ্যমে বর্তমান ফ্রান্স সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু সরকারি ব্যয় কমানো, নির্দিষ্ট সরকারি ছুটি বাতিল করার মতো পরিকল্পনা নিয়ে পার্লামেন্টে প্রস্তাবনা প্রকাশ করেন। প্রস্তাবনার মূল অংশে ছিল সরকারি ব্যয় থেকে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো কাটছাঁট করা। তবে এ উদ্যোগের কারণেই উল্টো তার প্রতি অনাস্থা ভোটের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত ও সরকার পতনের জন্য ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী সংসদে প্রয়োজন হয় ২৮০ ভোটের। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বাইরুর বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ৩৬৪টি। তার পক্ষে সমর্থন জানায় ১৯৪ জন এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকে ২৫ জন সংসদ সদস্য।
সোমবারের ভোটের প্রাক্কালে পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“সরকারকে অপসারণ করার ক্ষমতা আপনাদের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা নেই। বাস্তবতাকে উপেক্ষা বা দমন করা সম্ভব নয়।”

বাইরু বক্তব্যে যোগ করেন, “ব্যয় আরও বাড়তেই থাকবে, আর ইতিমধ্যেই অসহনীয় হয়ে ওঠা ঋণের চাপ আরও তীব্র হবে। ফ্রান্সের অস্তিত্ব এখন গুরুতর হুমকির মুখে।”
এদিকে সরকার পতনে বারবার বিপাকে পড়ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মাত্র দুই বছরের ভেতর এ নিয়ে ৫ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হচ্ছে তাকে।
আগামী দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: নেপালে চলমান আন্দোলনে ১৯ জন নিহত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ
