নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামে বেড়ে ওঠা তরুণ ইসমাইল হোসেন শাকিল আজ স্থানীয়দের কাছে এক অনন্য নাম। সমাজের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মানবিকতা ও স্বেচ্ছাসেবার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তার এই পথচলা।
শাকিলের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাত্রা শুরু ২০১৮ সালের মে মাসে। যদিও তার আগেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। একই বছরের শেষ দিকে যখন চাটখিলের তরুণদের নিয়ে জনপ্রিয় সংগঠন স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (এসডিএফ) গড়ে ওঠে, তখন থেকেই শাকিল এই সংগঠনের সঙ্গে থেকে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে থাকেন।
২০২০ সালে করোনা মহামারী যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তখন শাকিলকে পাওয়া যায় চাটখিল উপজেলা করোনা টিম ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সামনের কাতারে। জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, মাস্ক বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শুধু তাই নয়, বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন তার স্বভাব।
ত্রাণসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে বিনামূল্যে রক্তদান, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, রাস্তা সংস্কার, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য ঢেউটিন প্রদান, বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন; সব ক্ষেত্রেই রয়েছে শাকিলের নিরলস পদচারণা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো তার উদ্যোগে ৪৫০ জন মানুষের বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন হওয়া।
স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তার কার্যক্রম আরও প্রসারিত হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, গণ টিকাদান কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিরলস দায়িত্ব পালন; সব ক্ষেত্রেই শাকিলের অবদান প্রশংসনীয়।
তবে তিনি কেবল একটি সংগঠনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বদলকোট, আমাদের স্বপ্ন সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি চাটখিলের বিভিন্ন সংগঠনকে একত্রিত করে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী প্যানেল অব চাটখিল। এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে রমজানে ইফতারসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে ঈদে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সঙ্গে।
এতসব কর্মকাণ্ডে শাকিল আজ চাটখিলের তরুণ সমাজের কাছে অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। মানবিকতার আলো ছড়িয়ে চলা এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীকে উপজেলায় এখন চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
নিজ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করাই তার জীবনের লক্ষ্য। শাকিলের ভাষায়, “মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। সমাজ পরিবর্তন সম্ভব একসাথে কাজ করলে।”
মানবিক সেবার এই আলোকবর্তিকা তরুণ ইসমাইল হোসেন শাকিল নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন।
