
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ঘটনার দিন দুজন কোথায় গিয়েছিলেন, কীভাবে আলাদা হলেন এবং তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর দীপ কেন একাই ফিরে এলেন, এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে অস্পষ্টতা রয়েছে।
সর্বশেষ দীপ দাবি করেছেন, পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেছিলেন এবং সেই সময় পানিতে পড়ে যান তাহসিফ। তবে ধাওয়াকারীরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য, নাকি অন্য কেউ, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায় তদন্ত দল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল হতে পারে। তবে নম্বর প্লেট, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করা হবে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দীপ তাহসিফের বাসার গ্যারেজে আসেন। পরে দুজনকে আলাদা মোটরসাইকেলে করে বের হতে দেখা যায়। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য গ্যারেজে যান, পরে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খান এবং রাত ১২টার দিকে হাউস বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হয়ে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা তাহসিফকে খুঁজেও না পেয়ে তিনি একাই বাসায় ফিরে যান।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তিনি বাসায় পৌঁছান।তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, দুজন একসঙ্গে বের হওয়ার পর কীভাবে আলাদা হলেন এবং ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে দীপ আগে কেন তা জানাননি। ঘটনাস্থলটি মাদক কেনাবেচার পরিচিত স্থান হওয়ায় সেখানে মাদকসংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাহসিফ ও দীপের মাদক গ্রহণের বিষয়টিও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এখন পর্যন্ত ধাওয়ার দাবি বা মৃত্যুর কারণ কোনোটিই নিশ্চিত নয়; তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলের ওপরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ভর করছে।
