জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটিতে পুনর্গঠন ঘিরে তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতার পদাবনতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব ও নাহিদা সারোয়ার নিভার আগের পদমর্যাদা কমেছে। তবে এ পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি দলটি।

এনসিপির আগের ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেন বহাল রয়েছেন। একই সঙ্গে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদ বিলুপ্ত করে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামান্তা শারমিন আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। নতুন কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদ থেকেও বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে, আরিফুল ইসলাম আদীব আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থাকলেও নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক পরিষদে তার অবস্থান বহাল রয়েছে। নাহিদা সারোয়ার নিভা আগের কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব থাকলেও নতুন কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন।
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর নেতৃত্বের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের কারণে এ পরিবর্তন হতে পারে। সামান্তা শারমিনের ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট নিয়ে আপত্তি এবং পারিবারিক ব্যস্ততার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। তিনি এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীর অসুস্থতা ও তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়েছিলেন।
আরিফুল ইসলাম আদীবের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন।
তবে সম্প্রতি দল ওই পদে প্রার্থী পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে এবং আসিফ মাহমুদকে সামনে আনার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে নিজের পদ পরিবর্তনকে পদাবনতি হিসেবে দেখতে নারাজ আদীব। তাঁর বক্তব্য, আগে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো ভিন্ন ছিল এবং মুখ্য সংগঠক ও মুখ্য সমন্বয়কের মতো পদ বিলুপ্ত হওয়ায় দায়িত্ব ও পদমর্যাদায় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর অবস্থান আগেও অষ্টম ছিল, এখনও অষ্টম রয়েছে।
এনসিপির নতুন কমিটি ঘিরে এই রদবদল দলটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তিন নেতার পদ পরিবর্তনের পেছনে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে দলের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
