মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাও বাড়ছে।
ডেক্স রিপোর্ট: সরকার দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতি রাষ্ট্রের সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ। সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত মোট ১৫টি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে, যা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ বছরের কম বয়সী বয়স্ক ব্যক্তিরা মাসিক ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা মাসিক ১,০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। একইভাবে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ সিদ্ধান্ত। প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় ৩৬ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে অধিকাংশই মাসিক ৯০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির হার বৃদ্ধি করে বিভিন্ন শিক্ষাস্তরে সর্বোচ্চ ১,৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে ভাতার হার বৃদ্ধি, উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করায় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা বড় ধরনের সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এই বিস্তৃত উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে এবং রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
