ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৫.৭২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এর তিন মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২৭ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩৫.৩২ শতাংশ। এক প্রান্তিকের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৫২ কোটি টাকা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এনবিএফআই খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৩.২৫ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ না বাড়লেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এনবিএফআই খাতে বকেয়া ঋণ কমার পরিবর্তে বরং খেলাপি ঋণ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। নতুন ঋণ তেমনভাবে বিতরণ না হলেও পুরনো ওভারডিউ ঋণগুলো ধাপে ধাপে খেলাপিতে রূপ নিচ্ছে।
উত্তরা ফাইন্যান্স-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, “আগের যেসব ওভারডিউ ঋণ ছিল, সেগুলো এখন ক্লাসিফায়েড ঋণে পরিণত হচ্ছে। নতুন ঋণ বিতরণ কম হওয়ায় খেলাপির হার হঠাৎ বাড়ার ঝুঁকি নেই।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৫টি এনবিএফআইয়ের মধ্যে ১৯টির খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশের বেশি। একই প্রান্তিকের ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এ খাতের সম্পদের গুণগত মান ও লাভজনকতা আরও হ্রাস পেয়েছে।
একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিভিন্ন অনিয়মের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়েছে। নতুন আমানত সংগ্রহে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রিশিডিউল করা ঋণগুলো এখন খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।”
