ডেস্ক রিপোর্ট: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঠের লড়াইয়ে সেই রোমাঞ্চের ছিটেফোঁটাও নেই। দুই দলের দ্বৈরথ এখন যেন একপেশে গল্পে আটকে গেছে। এবারের এশিয়া কাপের আগে উত্তাপ ছিল যথেষ্ট, সীমান্তে দ্বন্দ্বও বাড়তি রসদ জুগিয়েছিল। কিন্তু মাঠে ব্যাট-বল গড়াতেই চেনা চিত্র—পাকিস্তানের হতাশা, ভারতের দাপট।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি টপ অর্ডার দাঁড়াতেই পারেনি বুমরাহ ও কুলদীপের বোলিং তাণ্ডবের সামনে। একে একে ফিরেছেন শুরুর দিকের সব ব্যাটার। শেষ দিকে শাহিন আফ্রিদির ঝড়ো ক্যামিওতে ভর করে দলটা ১২৭ রানে থামে। জবাবে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ কাজটা সেরে ফেলেছে বেশ সহজেই। সূর্যকুমার যাদব, অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে নেয় তারা। টানা দুই জয়ে সুপার ফোরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে গেল সূর্যদের দল।
ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই শুভমান গিল কিছুটা আভাস দিলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। তবে অপর ওপেনার অভিষেক শর্মা ঝড় তুলেছিলেন শাহিন আফ্রিদির প্রথম দুই ওভারে। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দ্রুত রান তুললেও শেষমেশ ধরা পড়েন ফাহিম আশরাফের হাতে। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে খেলেন ৩১ রানের দারুণ ইনিংস। এর পরও ভারতের স্কোরবোর্ড এগোতে থাকে দ্রুত। প্রথম ১০ ওভারেই ৮৮ রান তুলে নিলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। বাকি কাজটা শেষ করেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (অপরাজিত ৪৭*) আর তিলক বর্মা।
এর আগে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল ভীষণ বাজে। প্রথম ওভারেই সাইম আইয়ুবকে ফেরান বুমরাহ। কিছুক্ষণ পর হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হারিস। ৬ রানের মধ্যেই পড়ে দুই উইকেট। এরপর ফারহান ও ফখর কিছুটা চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ টেকেনি। এক প্রান্তে উইকেটের মিছিল চললেও ফারহান চেষ্টা করেছিলেন ইনিংস ধরে রাখতে। ৪৪ বলে করেন সর্বোচ্চ ৪০ রান। ইনিংসের শেষদিকে আফ্রিদি নামেন পাওয়ার হিটিংয়ে। ১৬ বলে চার ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংস। তার ইনিংসেই দল টেনে নেয় ১২৭ পর্যন্ত।
কিন্তু সেই রান ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে মোটেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয়ে যায় ১৫.৫ ওভারেই। পাকিস্তানকে আরেকবার মনে করিয়ে দিল ভারত—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই এখন কেবল কাগজেই সমানতালে, মাঠে একপেশে বাস্তবতা ছাড়া কিছু নয়।
