নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবিতে দ্বিতীয়বার আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি।
ডেক্স রিপোর্ট: আগামী আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফর না করলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১৭ জন পরিচালককে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে চিঠিও পাঠিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবিকে জানানো হয়েছে—টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারত সফর করতেই হবে। অন্যথায় পয়েন্ট হারানোর মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইসিসি তাদের এ ধরনের কোনো আল্টিমেটাম দেয়নি।
এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিসিসিআই কিংবা বিসিবি—কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর আগে রোববার বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করতে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার পরই বৈঠকের আয়োজন করে আইসিসি।
আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে—৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের।
এদিকে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। উল্লেখ্য, ২০২৬ আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। তবে তার আইপিএল খেলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও নেতারা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।
অবশেষে শনিবার বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কেকেআর। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কখনোই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেনি, ফলে এই সিদ্ধান্তে আর কারা জড়িত ছিলেন—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিসিবি। এ বিষয়ে বিসিবির পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট টিবিএসকে বলেন,
“আমরা আমাদের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছি। তারা যদি আমাদের দলের একজন খেলোয়াড়কেই নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে?”
এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশ সরকার দেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে “ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ” করেছে। এ প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সব খেলা ও আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠান প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
