চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশাহ-এর উপর হামলা, হুমকি ও জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর নেতা ডা. ঈশা চৌধুরী এবং তার অনুসারী ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশাহ (২৯)-কে গত রবিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন সকালে ডা. রিয়াজ বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. রায়হান উদ্দিন ও ডা. শরিফুল ইসলাম জারিফ তাকে বিভাগীয় প্রধানের রুমে যেতে বলেন। তবে তিনি তখন একটি অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যস্ত থাকায় পরে যাওয়ার কথা জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অপারেশন শেষ করে নির্ধারিত কক্ষে গেলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আগে থেকেই থাকা কয়েকজন চিকিৎসক মিলে তাকে মারধর শুরু করেন। স্টিলের চেয়ার, লাঠি, কিল-ঘুষি এবং কাচের গ্লাস দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত নার্স, ওয়ার্ডবয় ও রোগীরা এগিয়ে এলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আহত চিকিৎসককে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর হাসপাতালের ভেতরেই তাকে পদত্যাগে চাপ দেওয়া হয়। পদত্যাগ না করলে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা, নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ানো এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে পরবর্তীতে হাসপাতালের পরিচালক ও ডেপুটি পরিচালক উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ‘সমাধানের’ চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতির কারণে পদত্যাগের পরামর্শ দেন বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আরও একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ফলে চিকিৎসক ও রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করতে হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী চিকিৎসককে হাসপাতালে না আসতে বলা হয় এবং পদত্যাগের জন্য চাপ অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফুল ইসলাম জারিফ; ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. রায়হান উদ্দিন; ডা. রশিদ আবরার; ডা. মাহমুদ হাসান; ডা. তানজিবুর রহমান রিয়াদ; ডা. শিহাব সহ আরো অনেকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা করছেন। হুমকির কারণে তিনি থানায় অভিযোগ করতেও দ্বিধায় রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগের পর অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।
