সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে গত এক সপ্তাহে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে মাদক পাচার ও চোরাচালানের সাথে জড়িত বেশ কিছু কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক তৎপরতায় জেলাজুড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে জেলার ৫টি উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক ডজন অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে মাদক কেনাবেচা ও পরিবহনের দায়ে গত এক সপ্তাহে জেলায় মোট ২২ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আনুমানিক ৪৫০ বোতল ফেনসিডিল, ৩০ কেজি গাঁজা, ১২০ পিস ইয়াবা এবং বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল এবং ১টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সফলতা এসেছে হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলা সীমান্ত এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে আসা ফেনসিডিলের বড় বড় চালানগুলো হাতবদলের সময় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত পাচারকারীকে হাতেনাতে ধরা হয়।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার জানান, “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি থানায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এই মরণনেশার কারবারের সাথে যুক্ত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
গত এক সপ্তাহের এই ঝটিকা অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বাহকদের নয়, এই ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক চোরাচালান বন্ধে বিজিবির সাথে পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
