ডেস্ক রিপোর্ট: জলসম্পদের সমৃদ্ধ দেশ “বাংলাদেশ “। এই জলসম্পদ ভূখণ্ডে গড়ে তুলেছে মৎস্য সম্পদের ভাণ্ডার। শুধু খাদ্য হিসাবে নয় বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। যা বাঙালিকে বিশ্বে ” মাছে ভাতে বাঙালি ” পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে GDP-তে অবদান ২.৫৩ শতাংশ, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে করে বেকারত্ব হ্রাস, বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও রপ্তানির উর্বর খাত হিসাবে মৎস্য খাতের অবদান অনস্বীকার্য। (FAO) এর The State of World Fisheries and Aquaculture 2024 এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মিঠা পানির মাছ, বন্ধ জলাশয়ের মাছ,সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ মাছ আহরণে যথাক্রমে ২য়, ৫ম, ১৪তম ও ১ম অবস্থানে রয়েছে।
তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে মৎস্য খাতও বিভিন্ন জটিলতা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। জলদূষণ, নদী ভরাট, নদীর গতি পরিবর্তন, কৃত্রিম বাঁধ,জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি। পাশাপাশি মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তি অপ্রতুল , দক্ষজনবল ও প্রশিক্ষণ অভাব , মৎস্য অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সমন্বয় অভাব , সরকারি কার্যকরী নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ইত্যাদির অভাব রয়েছে।
বিশেষ করে, বাংলাদেশের ৫৬ জেলায় অবৈধভাবে মাছ ধরার ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম (চায়না দুয়ারী, বেহুন্দী জাল, কারেন্ট জাল) এসব ব্যবহারের কারণে মাছের ডিম, পোনা ও ছোট আকারে মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে, ফলে বর্তমান মাছের মজুদ কমায় ও ভবিষ্যতে হুমকির মুখে ফেলে।

অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যবেক্ষণ দেখা যায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি, মূলধন সংকট, প্রয়োজনীয় উপকরণ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ সরবরাহ করতে পারে না।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, জলদূষণসহ নানান রোগের কারণে ব্যর্থ হয়। মাছ আহরণের জন্য উন্নত মানের প্রযুক্তি – ইকো সাউন্ডার, আইস বক্স, ফিশিং লাইফবোট প্রভূতি এখনো ঘাটতি রয়েছে।পাশাপাশি নিরাপত্তার ঘাটতি, জলদস্যু ঝুঁকি, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ভর্তূকি ও ঋণের ঘাটতি, মূল্য উঠানামা ও অস্থিতিশীল বাজার রপ্তানির উপর প্রভাব ফেলে।
ফলে, মৎস্য খাতের সব চ্যালেঞ্জের কারণে উৎপাদনের ধারাবাহিক বজায় রাখতে বাঁধা সৃষ্টি করে। মাছের উৎপাদন অনিয়মিতভাবে উঠানামা করে। এরূপ অস্থিতিশীল শুধু দেশীয় বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। একইসাথে যা ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধির ধীরগতি এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টেকসই সমাধান লক্ষ্যে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি, জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন করা, জলবায়ু পরিবর্তনে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযোজন কৌশল অবলম্বন করা,মৎস্য খাতের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেসব Sustainable Development Goals ( SDG) জড়িত তা বাস্তবায়ন করা।
জলসম্পদ সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মাছের প্রজনন প্রজাতি মজুদ, সর্বোচ্চ সহনশীলমাত্রায় মৎস্য আহরণ নিশ্চিতকরণ করার জন্য “সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা ” প্রয়োজন। এতে মৎস্য খাতের সাথে যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ অর্থাৎ মৎস্য অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, জনগণ, গবেষণা কেন্দ্র, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন তাদের সমন্বয়ে অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
অর্থনীতি বিভাগ, মার্স্টাস শেষ বর্ষ , চট্টগ্রাম কলেজ। (2022-2023)
