নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল দিন—স্বৈরাচার এরশাদ পতন দিবস। ১৯৯০ সালে আজকের এই দিনে টানা গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর মাধ্যমে দেশে প্রায় এক দশক ধরে চলমান সামরিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা।
এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। পরে ১৯৮৬ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ চরম আকার ধারণ করে। ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক গণঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
১৯৮৭ সাল থেকে এরশাদবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে শক্তিশালী গণআন্দোলন। ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে লাগাতার হরতাল, অবরোধ ও বিক্ষোভে প্রশাসন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সমর্থন হারিয়ে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করেন।
এরপর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং এর মাধ্যমেই দেশে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সৃষ্টি হয়।
প্রতিবছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে। স্বৈরাচার পতন দিবস আজও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির এক অনন্য স্মারক হিসেবে বিবেচিত।
