ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করেছে। একই সঙ্গে কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা, নিয়োগ, মেয়াদ এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কিত বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়ন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিমালা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের কার্যক্রমে শরীয়াহ নীতির ব্যত্যয় (নন-কমপ্লায়েন্স) শনাক্ত হলে, ব্যাংকের পর্ষদকে সুপারভাইজরি কমিটির পরামর্শে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শরীয়াহ-সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন নীতিমালা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শরীয়াহসম্মত কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
কমিটির গঠন ও মেয়াদ
প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩ বা ৫ সদস্যের একটি শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি থাকতে হবে। সদস্যরা সাধারণত ৩ বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন, তবে সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এরপর ২ বছরের বিরতি নিতে হবে।
প্রতিটি সদস্য মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানী ও প্রতি সভায় ৮ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিশেষ কারণে সদস্য অপসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।
যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
সদস্য হতে হলে প্রার্থীর ইসলামী আইন, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামী ব্যাংকিং বা ফাইন্যান্স বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়। পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া অন্তত দুই বছরের শিক্ষকতা, মুফতি হিসেবে কাজ বা শরীয়াহ কমিটিতে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ইসলামী অর্থনীতি বা ব্যাংকিং বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ থাকাও একটি বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে।
শরীয়াহ সচিবালয় ও দায়িত্ব
প্রতিটি ব্যাংকে একটি শরীয়াহ সচিবালয় গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কমিটিকে সহায়তা করবে। সচিবালয়ের অধীনে থাকবে অভ্যন্তরীণ শরীয়াহ অডিট, কমপ্লায়েন্স ও গবেষণা বিভাগ।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে ব্যাংকের সব নীতি, চুক্তি, পণ্য, সেবা ও প্রচারণা শরীয়াহসম্মত কি না, তা তদারকি করা এবং লাভ-ক্ষতির হিসাবায়ন যাচাই করা। যাকাত বণ্টন, ক্বারজ তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং নতুন পণ্য চালুর আগে ফতোয়া প্রদানও এই কমিটির দায়িত্বে থাকবে।
শরীয়াহ কমিটির সদস্যদের বছরে অন্তত ৭৫ শতাংশ সভায় উপস্থিত থাকতে হবে। ধারাবাহিকভাবে তিনবার অনুপস্থিত থাকলে পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে।
গোপনীয়তা ও জবাবদিহি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা কোনো গোপন তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে পারবেন না। নিয়োগ চুক্তিতে এই গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি যুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এই নীতিমালা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
