ডেস্ক রিপোর্ট: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। সরকার কট্টর-ডানপন্থি সম্পৃক্ততা এবং ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে এই বিক্ষোভের নিন্দা করেছে।
‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ ব্যনারে রোববারের (৩১ আগস্ট) এই বিক্ষোভ হয়েছে সিডনি, মেলবোর্নসহ অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে। পাল্টা বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হওয়ায় কয়েকদফা সংঘর্ষও হয়েছে, খবর বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর।
বিরোধীদলের অনেক রাজনীতিবিদ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। এবিবিসি অস্ট্রেলিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সিডনির বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগ দিয়েছে ৮০ হাজার মানুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, শহরজুড়ে শত শত কর্মকর্তা মোতাায়েন করা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। মেলবোর্নে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলাদা ফিলিস্তিনপন্থি একটি বিক্ষোভ সমাবেশের অংশ নেওয়া মানুষদের সঙ্ড়ে সংঘর্ষ হয়।
অ্যাডেলেইড এ পুলিশের হিসাবমতে, দুই বিক্ষোভ সমাবেশেই আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদরা ছাড়াও এসব বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন নব্য নাৎসি নেতারা এবং লকডাউনবিরোধী প্রচারকর্মীরাও, যারা কোভিড মহামারীর সময় বিশিষ্ট অবস্থানে উঠে এসেছিলেন।
বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, গণ-অভিবাসন সমাজের ঐক্য নষ্ট করছে। ‘দ্য মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “গণঅভিবাসন আমাদের সম্প্রদায়গুলোকে একসঙ্গে জুড়ে রাখার বন্ধন ভেঙে ফেলেছে।”
গ্রুপটি এও বলেছে যে, তারা গণ অভিবাসনের কারণে- সংস্কৃতি, মজুরি, ট্রাফিক, হাউজিং, পানি সরবরাহ, পরিবেশ ধ্বংস, অবকাঠামো, হাসপাতাল, অপরাধ প্রবণতা এবং সম্প্রদায়ের ক্ষতি নিয়েও উদ্বিগ্ন।
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছিল, তারা এই সব বিক্ষোভ-সমাবেশের বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়ায় কোনও ধরনের ঘৃণার স্থান নেই বলে সরকার সতর্ক করেছিল।
দেশটির স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী টনি ব্রুক বলেন, “আমাদের দেশে সামাজিক সংহতি ক্ষুন্ন করতে পারে বা বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও মানুষের স্থান নেই।”
ওদিকে, বহুসংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যানে আলি বলেন, “আমরা সব অস্ট্রেলিয়র পাশে আছি। তারা কোথায় জন্মেছে সেটি কোনও বিষয় নয়। আমাদেরকে বিভক্ত যারা করতে চায় এবং অভিবাসী সম্প্রদায়কে ভয় দেখাতে চায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে।
