সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নাগরিকদের করণীয় জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান। প্রতীকী ছবি
আর্ন্তজাতিক নিউজঃ সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে নাগরিকদের কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে, তা জানিয়ে বিশেষ নির্দেশনামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান সরকার। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা গত ২৯ অক্টোবর আট মিনিটের ওই ভিডিও প্রকাশ করে। এতে বিস্ফোরণের সময় ও পরবর্তী সময়ে আশ্রয় নেওয়া, তেজস্ক্রিয় দূষণ এড়ানো এবং জরুরি প্রস্তুতির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশনা সামনে এসেছে। তবে ইরানের এই ভিডিও প্রকাশের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বা এমন হামলা আসন্ন—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ভিডিওতে নাগরিকদের সম্ভাব্য বিস্ফোরণের সময় ভূগর্ভস্থ কক্ষ বা বেসমেন্টে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। জানালা থেকে দূরে থাকতে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বাইরের বাতাস ঘরে প্রবেশ করায় এমন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খোলা জায়গায় কেউ আটকা পড়লে প্রাথমিক বিস্ফোরণের ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর নিকটবর্তী মজবুত ভবনে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরণ দেখতে বা ছবি তুলতে বাইরে অবস্থান না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হামলার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। এ সময় প্যাকেটজাত খাবার ও বোতলজাত পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিশরীয় সংবাদমাধ্যম ভেটো এ নির্দেশনার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সৌদি আরবের রিয়াদভিত্তিক নিউজ ৫০ জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হলেই আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে—এমন ধারণা করা যাবে না। কোনো ভবনে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বিস্ফোরণস্থল থেকে অনেক দূরে থাকা মানুষেরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ইস্ফাহান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আদেলজাদেহ ইরনাকে বলেন, বিস্ফোরণের মূল স্থান থেকে দূরে থাকা ব্যক্তিদেরও সরকারি সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি বা কর্মস্থলে থাকা নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভিডিওতে তেজস্ক্রিয় সিজিয়াম-১৩৭ শরীরে প্রবেশের কারণে সৃষ্ট নির্দিষ্ট ধরনের অভ্যন্তরীণ দূষণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রুশিয়ান ব্লুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তড়িৎচুম্বকীয় স্পন্দন বা ইএমপির কারণে ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। জরুরি তথ্য জানতে ব্যাটারিচালিত রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সময় দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তেজস্ক্রিয়তা স্থাপনাগুলোর বাইরে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটলে তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি ভিন্ন মাত্রা নিতে পারে।
এদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশও নাগরিকদের ঘরে খাবার, ওষুধসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের সতর্কতামূলক নির্দেশনা এবং ইউরোপের এমন প্রস্তুতির মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: ইরনা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন
