
১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজ, দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তির পর বাতিল করা হয়েছে গাজীপুর-বিমানবন্দর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। প্রকল্পটির পেছনে ইতিমধ্যে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। ঠিকাদারদের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিলও বকেয়া রয়েছে। অথচ বিশেষায়িত এই বাস সার্ভিসে কোনো যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়নি।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭৭ শতাংশের বেশি বলে দাবি করা হলেও, নকশাগত ত্রুটি ও করিডোরের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল। শেষ পর্যন্ত সরকার বিআরটি প্রকল্প বাতিল করে করিডোরটিকে ছয় লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকল্পটি বন্ধ এবং ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা এবং ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক সংশোধনের ফলে প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত পৌঁছায়।
২০২০ সালেই আইএমইডি নকশার ত্রুটি, নিম্নমানের কাজ ও দুর্বল তদারকি নিয়ে সতর্ক করেছিল। এরপরও প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এই ব্যর্থতার দায় শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের অর্থায়ন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশায় যুক্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাগত দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায় নির্ধারণে প্রয়োজন তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত।
প্রকল্প বাতিলের ফলে নতুন করে অর্থ অপচয় ঠেকানো গেলেও করিডোরকে মহাসড়কে রূপান্তর এবং এডিবি ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার ছাড় করা ২৫৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধের দায় থেকে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা, স্বাধীন মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
