ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন “সীমান্তে হত্যা করে, নদীতে বাঁধ দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না। ১৯৪৭ সালেই ফয়সালা হয়ে গেছে — বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। ২০২৪ সালে পুনরায় ফয়সালা হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি থাকবে না।”
ভারতের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারো সাথে আপোষ করবে না; বরং মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়বে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের হাইকমিশনার বন্ধুত্বের কথা বলতে এসেছেন, কিন্তু সেদিনই মৌলভীবাজারে একজনকে হত্যা করা হয়েছে।
বাজেট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বিরোধী দলের সমালোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জবাবে তিনি বলেন —
“আমরাও চেয়েছিলাম বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ হয়নি, লুটপাটের পথ বন্ধ হয়নি, ব্যাংক দখল বন্ধ হয়নি। এ বাজেটের কত টাকা জনগণের কাজে আসবে আর কত টাকা দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে — আমরা জানি না।”
ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকটি এস আলমের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং কারা এস আলমকে সুরক্ষা দিচ্ছে তা জনগণ জানে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দাম বাড়ানো হলেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। কারণ সরকার আওয়ামী লীগ আমলের বিদ্যুৎ চুক্তি ও আদানির চুক্তি বহাল রেখেছে।
“চুক্তি বহাল রাখবেন, ইসলামী ব্যাংক এস আলমের হাতে তুলে দেবেন, আর বিরোধী দলের কাছে প্রশংসা আশা করবেন — এটা অনেক বেশি আশা করা হয়ে যাবে।”
সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী মনোভাবের অভিযোগ এনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন আগের মতোই চলছে, সংসদকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং বিরোধী দলকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
“সরকার যদি স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, জনগণও অভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে।”
তিনি আরও বলেন, নতুন করে গজিয়ে ওঠা স্বৈরতন্ত্রকে শুরু থেকেই ঠেকিয়ে দিতে হবে এবং সরকারকে সর্বস্তরে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে ভারতের সাথে সম্পর্ক, বাজেট বিতর্ক ও সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বক্তারা।
এ সময় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ।
“সরকার যদি স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, জনগণও অভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে।”
