ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ বুধবার সারাদেশের নির্বাচনি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
এতে করে বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৯৮টি আসনে (পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন বাদে) এই ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল।
যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৮টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৬টি বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩৯ জন আপিল করেন, যার মধ্যে আপিল শুনানি শেষে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ প্রতীক বরাদ্দের পর আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত এই প্রচারণা চালানো যাবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করা হবে।প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একাধিক প্রার্থী থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ করবেন।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের সংরক্ষিত প্রতীক পাবেন।স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে নির্ধারিত প্রতীক থেকে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। একই প্রতীকের জন্য একাধিক প্রার্থী দাবি করলে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে, তা সম্ভব না হলে লটারির মাধ্যমে প্রতীক নির্ধারণ করা হবে।এছাড়া আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—এমন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংরক্ষিত না থাকা অবস্থায় তাদের পছন্দের প্রতীকে অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্রতীকের নমুনা সরবরাহ করা হবে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এসব প্রতীকের নমুনা পাওয়া যাবে। কমিশন কর্তৃক সরবরাহিত নমুনার বাইরে অন্য কোনো প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।
