ডেস্ক রিপোর্ট: প্রচলিত ব্যাংকিং ধারার বাইরে এসে পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যাংকে রূপান্তর হতে চায় ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক। ইতোমধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সবুজ সংকেতও মিলেছে। এখন চলছে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট বা সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন তৈরির কাজ।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করে শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।
এনসিসি ব্যাংকের পাশাপাশি নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিস ব্যাংক (এনআরবি) ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরের আগ্রহ জানিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি এখনো কোনো পরিকল্পনা জমা দেয়নি। এছাড়া পূবালী ব্যাংক ও ব্যাংক অব সিলন ইসলামিক শাখা বা উপশাখা খোলার জন্য আবেদন করেছে।
সর্বশেষ ২০২১ সালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যাংকে রূপান্তর হয়। এমন এক সময়, যখন বেশ কিছু ইসলামিক ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়েছিল, তখনই নতুনভাবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে কিছু প্রচলিত ব্যাংক।
বর্তমানে দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী, এক্সিম, শাহ্জালাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, আইসিবি ইসলামিক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কিছু ইসলামিক ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় গ্রাহকদের আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। ফলে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে মানুষের আগ্রহ আবারও বাড়ছে। এজন্য প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো এখন শরিয়াহভিত্তিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিতে চাচ্ছে।
এনসিসি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যাংক হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছি। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তৈরি করা। সেই কাজ চলছে, নির্ধারিত সময়েই প্রতিবেদন জমা দেব।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ৪১টি ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা ও ৯১৯টি উইন্ডো রয়েছে। এর মধ্যে এনসিসি ব্যাংকের দুটি শাখা ও ৩২টি উইন্ডো রয়েছে। পূবালী ব্যাংকের আটটি শাখা ও ২২টি উইন্ডো আছে, এবং সম্প্রতি তারা আরও ৮৭টি শাখার জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে আটটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই শেষে ইসলামিক ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ স্থিতি ৫ লাখ ৬৮ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে ইসলামিক ব্যাংকগুলোর মোট শাখা সংখ্যা ১,৭৩৯টি।
